যশোধরা রায়চৌধুরী – “এই হৃদয় আসলে ডাস্টবিন ”

Spread the love

একদিন দুদিন ভাল লাগা, তারপর হতাশা, সবকিছু পরিত্যাজ্য  ডাস্টবিনে। সময়ের ডাস্টবিন। উপচিয়া উঠিয়াছে। একের পর এক ফেকু ফেলিতেছি। মুহূর্তিক ফেকু কথাবার্তা, চেনাশোনা। বিতন্ডা। তর্ক । অনেক আদুরে চাহনি। প্রশংসা। প্রশংসার আয় মাত্র পনেরো সেকেন্ড। তাহার পর স্তুতি। শ্রদ্ধা। প্রণাম। নাম মাহাত্ম্য। তাহার পর ফেকু প্রেম ভালবাসা।  কিছুটা মাখোমাখো, কিছুটা অন্যমনস্ক।

এই সবকিছুর ভেতর দিয়ে চলিয়া যাইতেছে আয়ু।

আমার সমস্ত দিন কাটিয়া যাইতেছে,  ঘষঘষ। সে সময়ের অনেকটাই কাটিতেছে ফেসবুক, ওয়াটস্যাপ, তাহাদের সূক্ষ্মতম ছুরিকায়।

 এই সময়যাপনের ভেতর কোন স্থিতুভাব নাই। নাই কোন দীর্ঘকালীন আরাম বা ক্ষান্তি। নূতন উত্তেজনা, নব নব ক্লান্তির উপাদান আছে।  নিজেদের ঘুমচোখকে বিস্ফারিত করিয়া দিবে এমন অশ্লীল কিছু, মজার কিছু। মজা, মজা, অনেক মজা চাহিয়া ফেকুগণ একেবারে আত্মহারা।

 আজ মিস্টার ফেকুর জন্মদিন।  ফেকুর দেওয়ালে আজ অনেক হাতের ছাপ পড়িবে, HBD, MHROD । আজ ফেকুস্যার সাজিয়া গুজিয়া ছবি তুলিবেন । প্রোফাইল পিক পাল্টাইলে ১০০ আপ লাইক পড়িবে। কেহই জানিবে না, ফেকুর বয়স ৫৫ ছাড়াইয়াছে, চুলে কলপ তো দিয়াই থাকেন, তাহার সহিত অ্যাড হইবে ফোটোশপের কালির পোঁচ আর গালের ফ্যাট কিছুটা ছায়াচ্ছন্ন করিলেই বয়স কমিয়া ৪০ হইবে।

বুঝিলেন না সুধী পাঠক? আপনি বুঝি নেটধন্য নহেন? নাকি নাতি নাতনির হাত ধরিয়া ইঁদুর দৌড়, অর্থাৎ কিনা মাউজের দৌড়ে নামেন নাই? দেওয়াল মানে ফেসবুকের ওয়াল, হাতের ছাপ হইল পোস্ট। আর এইচ বি ডি হইল হ্যাপি বার্থ ডে। আর অন্যটা? মেনি হ্যাপি রিটার্ন্স অফ দ্য ডে। প্রোফাইল পিক হইল… যাক , আপনাকে আর বলিয়া কী হইবে। আপনি তো আর নিজের ছবি নিজের দেওয়ালে লটকাইয়া ধূপ ধুনা দিয়া পূজা করেন নাই। মিস্টার ফেকু, মিস ফেকুরা করেন।

পরদিবসেই ফেকুর জন্মদিন স্মৃতি একেবারেই গর্তে যায়। ডাস্টবিনে। মুহূর্তের ডাস্টবিন। সকলে ভুলিয়া যায়। দায়সারা ভালবাসা, মুসলমানের মুরগি পোষা।

Yashodhara Roychowdhury1

শিল্পীঃ সুদীপ চক্রবর্তী

আসলে ইহারা , অর্থাৎ ফেকুরা, এক নতুন প্রজাতির জীব। দেখিতে আমার আপনার মতই। ল্যাজ নাই, দুটা কান, দুটা চোখ, একটা ল্যাপটপ আছে। তবে, এক্ষণে বঙ্গভূষণ, বঙ্গবিভূষণ, বঙ্গ-অতিবিভূষণ যদি কেহই থাকিয়া থাকে তো সে ফেসবুক অর্থাত ফেবু নামক বিপুল বারিধিতে নৌকালীলা করা কলির কেষ্ট ফেকুগণ।

শুধু জন্মদিন কেন। সেলিব্রেশনের কিছু বাকি আছে নাকি?  যদি  পূজা পার্বণ মহোৎসব হয়, যদি বিজয়া রবীন্দ্রজয়ন্তী কি ঘনবরিষণ হয় তো সেলিব্রেশন করেন ফেকুগণ। ইহাদের হৃদয় ডাস্টবিনে সবার স্থান আছে। রবীন্দ্রনাথ হইতে মন্দিরা বেদী। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার হইতে দীপা কর্মকার। কিছু হইলেই হইল, জন্মদিন মৃত্যুদিন পুরস্কার প্রাপ্তি দৌড় লম্ফন হারা জেতা। কোন না কোণভাবে হৃদয় ডাস্টবিনেরে পূর্ণ করিতে হইবে।

আর মধ্যে মধ্যে ডিলিট বাটন টিপিতে হইবে। সব ঘড় ঘড় ঘড়াৎ যাইবে কালের গর্ভে।

 যদি আজ বৎসরের শেষদিন হয় তো কথাই নাই, খাদ্যমদ্যে ফেকুদের মহোৎসব। মহোত্তম হৈহৈবৃন্দের লম্ফঝম্প। হুতোম বলিয়াছিলেন বৎসরের শেষ দিনে যুবত্বকালের এক বৎসর গেল দেখিয়া যুবক যুবতীরা বিষণ্ন হইলেন, ফেকুগণ দেখিলেন বড় মজা, সত্যকারের বয়স কাহাকেও দেখাইতে হয়না, ইহা ভার্চুয়াল জগত। এমনকি  যাহারা কেক বিস্কুট খাদ্যমদ্যাদির কাঙাল, অকেশন পাইলেই পার্টি করেন কিন্তু পয়সা খরচে বড় গাত্রে ব্যথা, তাঁহারাও দিনটির বড়ই আদর করিলেন।  কেননা আদতে ফেকু বলিয়া, আসলে ক্যাশবাক্সে হাত পড়িল না রাশি রাশি খাদ্যমদ্যের ফ্রি ডাউনলোড করিয়া পোস্ট করিতে লাগিলেন । কেহ জানিল না ট্যাঁকে কিছু নাই, বাড়িতে মুড়ি চিবাইয়া আছেন। নেট হইতে ভাল কেকটা, ভাল শ্যাম্পেনটা , আশটা ছবি হইয়া দেওয়ালে ঝুলিতে লাগিল।

এক্ষণে আমরা এজ অফ ইমেজেস এ আছি। ছবিসর্বস্ব জীবন। সেকালে বিছানার মাথার কাছে পয়ঁতাল্লিশ ডিগ্রি হেলানো অবস্থআয় মা কালী, পিতৃদেব, পিতামহ ও অন্য অন্য ঠাকুরগণের চিত্র ঝুলিত, সবুজ ছ্যাঁতলাপড়া দেওয়ালের গায়ে আহা কী শোভা দেখিতাম। আপাতত আমাদিগের ফোনে, ট্যাবে, ল্যাপটপে সর্বত্র ছবি ঝুলিতেছে। কালীপূজার কালী, দুর্গাপূজার দুর্গা, ফ্যাশনসপ্তাহের ঠ্যাংবাহির করা মডেল, গরমের আইসক্রিম, শীতের বনভোজনের আলুরদম, বর্ষার জলভরা ডাবের খোলা… সবই ছবি হইয়া ঝুলিতেছে।

আর আমরা ঝুলিতেছি, চীঈঈঈঈঈজ। অর্থাত ছবি তুলিবার পোজ, হাসি মুখ, দন্তবিকশিত মুখব্যাদানে জীবনের তাবত দুঃখ বাতিল , যেইভাবে টাকা না থাকিলেও, চকচকে জামা পরিলে টাকার অভাব খানিক পুরে, সেইরূপ আনন্দ না থাকিলেও, চকচকে হাসিলে , সে হাসিমুখ ওয়ালে, ওয়ালপেপারে লাগাইলে মনের দুঃখ খানিক পুরে। খানিক ঢাকা থাকে। বাহিরে প্যান্টুলুন, ভিতরে ছুঁচোর কেত্তনের ন্যায় ফেকুগণের সব দুঃখ, সব বেদনা, সব দারিদ্র্য চাপা পড়িয়া যায় কেবল এই ছবির দৌলতে।

ছবির মধ্যে বড় ছবি সেলফি। সেলফি একক, তুলিতে হইলে একা একা মুখব্যাদান করিয়া হাসিবে বা মুখ ছুঁচলো করিয়া অদ্ভুত চুম্বনোন্মুখ করিবে। সেলফির বহুবচন গ্রুপফি। অনেকে মিলিয়ে এক হইবে, এবং হাত গদখালির পেত্নির ন্যায় বাড়াইয়া ছবি তুলিবে। মুখমন্ডল সকল উদ্ভাসিত হইবে, গোলাপি চুণ পড়িবে আলোক উদ্ভাসের সহিত ফোনের নিজস্ব সেলফি মাস্টার অ্যাপ-এর কল্যাণে।

চকচকে যাহাকিছু তাহাই সোনা। বাকি সব ডিলিট বাটন। বাকি সব ডাস্ট বিন।

সেলফি তুলিতে তুলিতে মানুষ রেলব্রিজে উঠিয়া  ট্রেন চাপা পড়িল। গঙ্গার ধারের পাথরের উপর পা রাখিয়া পা পিছলাইয়া তাহাদের গঙ্গাপ্রাপ্তি হইল। সেলফি তোলা তবু থামিল না।

ছবিতেও ফেকু পর্ব আছে। সত্য ছবি চাইনা। মিথ্যা ছবি প্রয়োজন। গরমের ছুটিতে বেড়াইতে যাইতে রেস্তর অভাব? পকেট ঢু ঢু? তাহাতে কি? সার্চ করিয়া সুইজারল্যান্ডের চিত্র টাঙাও। গ্রীষ্মাবকাশের বদলে দৃশ্যাবকাশ রচিত হইল। মদ খাইবার টাকা নাই, মকটেল নামক ঝুঠা সবুজ রঙ পানীয় লম্বা গেলাসে লইয়া পোজ দিয়া ভাব করিতেছ, পৃথিবীর সবচাইতে মাতাল তুমি ও তোমার বয়ফ্রেন্ড?  তা বটে, আজিকালি মদালসা নারীর চাহিতে মজালসা নারী অধিক লাইক প্রাপ্তা হয়।

ফেকুগণ কথায় কথায় রাশি রাশি আমোদ করে, রাশি রাশি লাইকপ্রাপ্ত হইয়া দেখায়ঃ দ্যাখো আমি কত ভাল দেখতে। দ্যাখো আমি কী অপূর্ব শাড়ি কিনিয়াছি। দ্যাখো আমি কত ভাল সাজিতে পারি। দ্যাখো আমি কত সুন্দর পোজ দিতে পারি।

‘দ্যাখো আমি-‘ র কোন শেষ নাই। দ্যাখো আমি কী চমৎকার ফোটো তুলিতে পারি।  আমার তোলা ফোটোই না দেখিতেছ! দ্যাখো আমি কী ভাল রাঁধিতে পারি। এই তোমাদের পোলাও রাঁধিয়া ছবি ট্যাগ দিলাম। দ্যাখো আমি কত ভাল ঘর সাজাই। দ্যাখো আমার বইয়ের তাকে কত দেশ বিদেশের বই, আমি কত বিদ্বান।  দ্যাখো আমি দ্যাখো আমি দ্যাখো আমি।

হায়! কি দিনকাল পড়িল। ফেকুতে ফেকুতে ফেবু ছাইয়া গেল । ফেক আইডেন্টিটি, ফেক নাম, ফেক প্রোফাইল, ফেক ছবি। সব ফেক জানিতাম, এমনকি কলিযুগে ভালবাসা, প্রেম স্নেহ মমতা বন্ধুত্ব। কথার কথা বলিয়া দেশ উজাড় হইয়াছে ফেকু আবগে। তাও সহিতাম । শেষে দেখি, আর এক নতুন ফেকের ভেক। লেখক হইয়াছেন সব।

কাগজ নাই কলম নাই, শুধু মাউজ হাতে লইয়াই লেখক। টাকা চাইনা, কেবল ইন্টারনেট চাই। কীবোর্ড খুটখুটাইয়া লেখক বনিয়া যাইতেছে সদ্যোজাত বালকবালিকাগণ … বৃদ্ধ-প্রৌঢ়েরাও কম যায় না। সকল ফেকুগণ মহা মাতব্বর। লিখিলেই সারি সারি লাইক, বুড়া আঙুল উঁচাইয়া। আর ওয়াহ, অসাম, দারুণ , অসাধারণ, কী সুন্দর , আহা… ।  কমেন্টের বন্যা। ঝোপ বুঝিয়া কেবল কোপ মারনের অপেক্ষা। তক্কে তক্কে থাকিয়া মধ্যরাত্রে নোট পয়দা করিয়াছে। সকাল হইতা বার বার দেখিতেছে, কয়টা বুড়া আঙুল পড়িল। আহা, কী হাততালির আওয়াজ। সারি সারি অদৃশ্য সিটে ভর্তি জনতা … শ্রোতা ও দর্শক। অলীক , ভার্চুয়াল। তাহারা তালি মারিতেছে আর কবি লেখা পয়দা করিতেছে। পয়সা লাগে না। না লিখিতে, না তালি মারিতে। যদি প্রতি লেখা পোস্ট করিতে দু টাকা, আর প্রতি লাইক দিতে কুড়ি পয়সা ফাইন হইত তবে বুঝিতাম কত ধানে কত চাল!

ফেকুদের রাজনৈতিক চেতনার কথা আর কী বলিব, তাহাও অতি উন্নত। কে কী খাইল, কে কী রাঁধিল ইহা যেমন তাহাদের মনে খুবই গুরুত্বপূর্ন আন্দোলন উপস্থিত করিতে পারে, তেমনই, কোন রাজা, কোন রাজপুত্র চুরি করিল, কে মিথ্যা কথা বলিল, কোন নেত্রী কটা জুতা আলমারিতে আর কটা কঙ্কাল কাবার্ডে রাখিলেন তাহাও একে অপরের দেওয়াল হইতে শেয়ার করিয়া বসে আর মনে মনে বাহবা দেয়, আমি বড় প্রতিবাদী হইলাম, দ্যাখো সকলের জারিজুরি ফাঁক করিয়াছি।

সেদিন এক ফেকু দেখিলাম বড় বড় করিয়া লিখিয়াছেন, সব ব্যাটা চোর, সব ব্যাটা পকেটমার। সঙ্গে ডাউনলোড করা ছবি, কোন বিখ্যাত পত্রিকার নিউজ, চুরি হইয়াছে রাজকোষে। বুঝিলাম, প্রতিবাদ বড় বিষম বস্তু।

পরদিবসে দেখিলাম, মিশর বাংলাদেশের স্কোয়ারে স্কোয়ারে যত প্রতিবাদী সভা তাহার ছবি টাঙাইয়া প্রতিবাদ দেখানোর তুষ্টি পাইয়াছেন ফেকু রা। ইহাদের একবার যদি অগণতান্ত্রিক উপায়ে হাজতবাস করানো যাইত, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নামে হুংকার ছাড়া বন্ধ করা যাইত।

ফেবুর  আর এক ফেকু হইল কথায় কথায় কংগো, কংগো, কনগ্রাচুলেশনের বন্যা। কুড়ি বৎসর পূর্বের বিবাহের ছবি পোস্টাইলেন, এই জমানায় কঙ্গো পড়িল বিস্তর। কেহ পুরস্কার পাইয়াছিলেন মান্ধাতার আমলে, ছবি সাঁটাইলেন, কঙ্গো পড়িল… হায়, কনগ্রাচুলেশনের মাথা নাই, ল্যাজা নাই।

তবে ফেসবুকের আমোদ শীঘ্র ফুরায়, অভিনন্দনের অকেশনও পরদিবসে বাসি পচা গলা ও ধসা হইয়া যায়, ক্রমে একই পোস্ট তেতো হইয়া পড়ে, টাটকা অকেশন টাটকা –টাটকা থাকাই ভাল।

নিচে দিলাম কয়েক ফেকুর কার্যকলাপের বিবরণ, পড়িয়া পাঠক হও অবধান, সাবধান।

এক ফেকু মহাশয় প্রথমে বড় মানুষের বাড়ির রবিবারের আড্ডায় স্রেফ হাজিরা দিতেন, বড় বড় পন্ডিতগণ সেখানে কথা বলিতেন, ফেকুবাবু শুধু হাঁ-টা হুঁ-টা দিতেন। বা, মুখে কিছু না বলিয়া, কেবলি ঘন ঘন মাথা নাড়িতেন। সেখানে পাত না পাইয়া এখন আর বাড়ি হইতে বাহিরান না। অনেক সহজ হইল , বাস ভাড়া নাই, পাটভাঙা জামাটি পরিবার কসরত নাই, হাঁটিয়া স্টপ হইতে বড়মানুষ দাদার বাড়ি যাওয়ার ঝামেলা নাই। বাড়ি বহিয়া গিয়া দুইচারিটা গালাগাল খাওয়া নাই। এখন ফেবুতে ঢুকিয়া মহাশয় সকাল সকাল বসিয়া পড়েন। আড্ডা মারেন, চ্যাটান। আর সাহিত্য গ্রুপ ভিজিট দ্যান।

আপাতত নানা গ্রুপে হাজিরা দিবার ফলে, বিশেষ কিছু কিছু অন্য অন্য ফেকুগণের লেখায় লাইক দিবার ফলে, আর অন্য গ্রুপের কারো কারো পোস্টে আগু বাড়াইয়া গালি দিয়া, সমালোচনার নামে ঝগড়া করিয়া আসিবার ফলে, গ্রুপ মডারেটরগণের সূক্ষ্ম বিবেচনায়, জনৈক ফেকু সম্পাদকের সুপারিসে ও জনৈক বড়দার কৃপায় নিজেই পন্ডিত হইয়া পড়েন।  এখন নিজে  তিনি গল্প, কবিতা ও মুক্তগদ্য লিখিয়া পোস্ট দেন যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক লাইক পান, ছিপ ফেলিয়া সকাল হইতে ফেবুতেই বসিয়া থাকেন। কসরতের মধ্যে শুধু মাঝে মাঝে উঠিয়া গিয়া বইয়ের তাক হইতে এক আধখান কোটেশনের বই নামানো আর ঝাড়িয়া দেওয়া। ঐটুকু না করিলে ভয় আছে। শুনিয়াছেন কোন এক বাবু সারাদিন কম্পিউটারের সম্মুখে বসিয়া থাকিয়া থাকিয়া শেষ অবধি মহাপুরুষের ন্যায় হইয়া গিয়াচেন।  ধ্যানস্থ হয়ে ফেসবুক করেন, গায়ে বড় বড় অশোথগাছ ও উইয়ের ঢিপি হয়ে গিয়েছে!

 এক একজন ছিলেন,  রোজ সকালে বঙ্গভাষার ব্যাকরণের গুষ্টির তুষ্টি করিয়া কবিতায় স্ট্যাটাস দিতেন। সবাই বাহা বাহা করিতে। একদিন খেয়াল করিলেন, স্ট্যাটাস তো দিনগত পাপক্ষয়ের ন্যায় ক্ষয় পাইয়া যায়। ফেবু-র স্ট্যাটাস দুইদিনেই বাসি। দীর্ঘ আয়ু লাভ হইবার সম্ভাবনা নাই। সময়ের ডাস্টবিনে যতই ঢাল, সবই ত লয়প্রাপ্ত হইবে।

তাই, সব ফেকু মিলিয়া বুদ্ধি বাহির করিলেন। সব ফেকু ঠিক করিলেন, তাঁহাদের সব স্ট্যাটাস একত্র করিয়া বই করিবেন, এই মানসে “ স্ট্যাটাস-সমগ্র” বাহির করিবেন ভাবিতেছেন। ইহাই তাঁহার জীবনের হাই পয়েন্ট হইবে।

বিল গেটস সায়েবের কথা অমৃতসমান, তিনি নাকি বলিয়াছেন শুনিলাম, এই বিশ্বগ্রামের কেন্দ্রীয় প্লাজা ইন্টারনেট। আমি বলি, ফেকুদের রাজত্বে বিশ্বগ্রামের চন্ডীমন্ডপ হইল ফেবু, অর্থাৎ ফেসবুক। চন্ডীমন্ডপে সারা পাড়ার কেচ্ছা ঘাঁটিয়া আসিয়া বসিলাম, দুদন্ড জুড়াইলাম, গায়ের ঝাল ঝাড়িয়া গালি দিলাম বড় বড় মানুষকে, নিজের কবিতা আউড়াইলাম, তাহার পর বাড়ি গিয়া ঘুমাইলাম। আহা! বড় সুখ, বড় আনন্দ।

সমাপ্ত


Spread the love
সাধন চট্টোপাধ্যায় – “ জঞ্জাল মঙ্গল ”
ঝুমুর পাণ্ডে – “ ডাস্টবিন ” ১
Close My Cart
Close Wishlist
Recently Viewed Close

Close
Navigation
Categories

Add address