“সম্পাদকের কথা” – প্রথম বর্ষ ।। দ্বিতীয় সংখ্যা ।। পৌষ ১৪২৩

Spread the love

15403791_1425954284370835_7822832170101091090_o

প্রচ্ছদ শিল্পীঃ অভিজিৎ শীল

ভারতের গ্রাম প্রকৃত ভারতের আত্মা। শহর শিল্প, সাহিত্য, নির্মাণকলার কেন্দ্র হলেও আমাদের কল্পনার জগতে বরাবর গ্রামের প্রাধান্য। কখনও অস্তমিত সূর্যের আলোয় সোনার ফসলে ভরা ক্ষেত অথবা নদী স্রোতে কোনও মাঝির ভাটিয়ালি গান। তাই শহরকেন্দ্রিক হয়েও আমাদের শিকড় ছুটে চলে ধান ক্ষেত ধরে, সাঁতরে বেড়ায় নদীর জলে, আবার কখনও ঝোড়ো হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয় নিজেদের।গ্রাম মানেই আমরা ভাবি কৃষিভিত্তিক মানুষের ছোট একটি জনবসতি। বর্তমানে ভারতের ৬৮.৪৮ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করেন। সুতরাং ভারতের সামাজিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থাও গ্রাম নির্ভর।

প্রায় খ্রিষ্টীয় অষ্টম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে ভুসুকপাদ লিখছেন- “বাজণাব পাড়া পঁউআ খাঁলে বাহিউ/ অদঅ দঙ্গালে ক্লেশ লুড়িউ।।/ আজি ভুসুক বঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিনী চণ্ডালে লেলী।।” আবার কখনও কাহ্নপাদ গ্রাম্য সরল প্রেমের উপর লিখলেন- “ভবনির্বাণে পড়হ-মাদলা/ মন বপন বেণি করণ্ডকশালা।।/ জঅ জঅ দুন্দুহি-সাদ উছলিঅঁ/ কাহ্ন ডোম্বি-বিবাহে অলিঅ।।” সেই চর্যাপদের সময় থেকে বর্তমান সময়েও বাংলা তথা ভারতের গ্রাম শিল্পী-সাহিত্যিকদের সাধনার বিষয়। গ্রাম কখনও রমণী, কখনও সবুজ, কখনও অভুক্ত জোয়ান, কখনও সোনার ফসল। কখনও প্রাক-ঐতিহাসিক গ্রাম্য সমাজব্যবস্থা থেকে বর্তমান পরিস্থিতি, কখনও আত্মভোলা সহজ সরল যুগলপ্রসাদ, আবার কখনও বেদে গ্রামের সামাজিক পটভূমি।

ভারত গ্রামভিত্তিক দেশ হলেও আজও ভারতের গ্রামব্যবস্থা অনগ্রসর। শহর যত দ্রুত গতিতে চলছে উন্নতির শিখরে, সেখানে গ্রাম চলেছে হামাগুঁড়ি দিয়ে। তাই আমরাও হামাগুঁড়ি দিয়ে এসে পৌঁছেছি আমাদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টায়। প্রত্যেকের সাহায্যে ও সহযোগিতায় আমরা কৃতার্থ। প্রতিটি পদক্ষেপে আরও বলিষ্ঠ ও সুদৃঢ় হয়ে ওঠায় আমরা কর্মরত। সকলকে শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানিয়ে “কলিখাতা”-র দ্বিতীয় সংখ্যা ‘ভারতের গ্রাম ও গ্রামজীবন’।

ধন্যবাদ

Spread the love
“সম্পাদকের কথা” – প্রথম বর্ষ ।। প্রথম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪২২
“সম্পাদকের কথা” – দ্বিতীয় বর্ষ ।। প্রথম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪২৪
Close My Cart
Close Wishlist
Recently Viewed Close

Close
Navigation
Categories

Add address